ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করবেন যেভাবে

ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তু ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যার হিসেবে ওয়ার্ডপ্রেস বেশ জনপ্রিয়। আউটসোর্সিংয়ের কাজ পওায়ার বাজারেও (মার্কেটপ্লেস) ওয়ার্ডপ্রেসের অনেক চাহিদা। ওয়েবসাইট ব্যবস্থাপনার জন্য তুলনামূলকভাবে অনেক সহজ হলো ওয়ার্ডপ্রেস। প্রোগ্রামিং না জেনেও এটি দিয়ে ওয়েবসাইট বানানো যায়। ওয়ার্ডপ্রেস শেখার জন্য নিজের কম্পিউটারে এক্সঅ্যাম্প (xampp) সফটওয়্যারটি (সার্ভার) ইনস্টল করে তারপর ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করতে হয়।
ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করার জন্য প্রথমে http://goo.gl/qC5dIr ঠিকানা থেকে এক্সঅ্যাম্প সফটওয়্যারটি কম্পিউটারে নামিয়ে নিতে হবে। এরপর ওটা ইনস্টল করুন। xampp Control panel খুলে Apache এবং MySQL-এর ডান পাশ থেকে Start-এ ক্লিক করে চালু করুন। পাশে Running লেখা থাকলে মনে করবেন চালু হয়েছে। আপনার কম্পিউটারে স্কাইপ চালু থাকলে অ্যাপাচি নাও চালু হতে পারে। তখন স্কাইপ লগ-আউট করে স্টার্টে ক্লিক করলে চালু হবে। আর যদি উইন্ডোজ ফায়ারওয়াল থেকে কোনো বার্তা আসে, তাহলে Allow Access-এ ক্লিক করুন।
এখন http://localhost/phpmyadmin ঠিকানার ওয়েবসাইটে যান। ভাষা নির্বাচন করতে বললে ইংরেজি বেছে নিন। তারপর ডেটাবেইস ক্লিক করুন। Create database-এ কোনো নাম (যেমন: database) লিখে Create বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে database নামে একটি ডেটাবেইস তৈরি হয়ে যাবে।
এরপর http://wordpress.org/download ঠিকানা থেকে ওয়ার্ডপ্রেস নামিয়ে আনজিপ করে C: ড্রাইভের htdocs (C:/xampp/htdocs) ফোল্ডারে পেস্ট করুন। এখন আবার http://localhost/wordpress ঠিকানায় যান। তারপর Create a Configuration File-এ ক্লিক করে Let’s go!-এ ক্লিক করুন। নতুন পেজ খুললে Database Name-এ আপনার ডেটাবেইসের নাম (database) লিখুন। User Name-এ root লিখুন। Password-এ কোনো কিছু লেখার দরকার নেই। ফাঁকা রেখে দিন। আর কোনো কিছু পরিবর্তন না করে Submit বাটনে ক্লিক করুন। তারপর Run the install বাটনে ক্লিক করে নতুন পেজ ওপেন হলে Site Title-এ কোনো কিছু লিখুন। Username-এ admin এবং Password-এ দুবার পাসওয়ার্ড লিখুন। Your E-mail-এ আপনার ই-মেইল ঠিকানা লিখুন। এখন Install Wordpress-এ ক্লিক করুন। ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল হয়ে যাবে। এখন ওয়ার্ডপ্রেসে লগইন করার জন্য http://localhost/wordpress/wp-login.php ঠিকানায় যান। এখানে Username-এ admin এবং Password-এ আপনার দেওয়া পাসওয়ার্ড লিখে Log In বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে ওয়ার্ডপ্রেসে লগইন হয়ে যাবে। তারপর ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার পছন্দমতো করে পোস্ট, পেজ যোগ করে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইটটি সাজাতে পারেন।

আসছে ফেসবুকের ডিজিটাল সহকারী ‘এম’

ফেসবুকের ডিজিটাল সহকারী ‘এম’

জেমস বন্ড’ সিরিজের মিস মানিপেনির কথা মনে আছে? এই সিরিজের ছবিগুলোতে বন্ড এবং মানিপেনির মধ্যে কিছুটা রোমান্টিক সম্পর্কের অবতারণা করা হলেও মানিপেনি মূলত জেমস বন্ডের বস এম-এর ব্যক্তিগত সহকারী। সেই ‘মানিপেনি’ ছদ্মনামে ডিজিটাল সহকারী তৈরি করছে ফেসবুক—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে মাস খানেক আগে। তা যে শুধুই গুজব ছিল না, তার প্রমাণ মেলে ফেসবুকের হেড অব মেসেজিং প্রোডাক্ট ডেভিড মার্কাসের ফেসবুক পাতায়। বুধবারে তিনি লেখেন, ‘আজ আমরা “এম” নামের নতুন একটি সেবার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করছি। ফেসবুক মেসেঞ্জারে ব্যক্তিগত সহকারীর ভূমিকায় এম মূলত আপনার হয়ে নানা কাজ করবে এবং তথ্য খুঁজে দেবে।’

অন্যান্য ডিজিটাল সহকারীর সঙ্গে এমের পার্থক্য, এটি শুধু তথ্য খুঁজবেই না, কাজও করে দেবে। ডেভিড মার্কাসের ভাষায়, ‘এটা পণ্য কিনবে, প্রিয়জনকে উপহার পাঠাবে, রেস্তোরাঁ খুঁজে দেবে কিংবা ভ্রমণের বন্দোবস্ত করবে।’
স্মার্টফোনভিত্তিক ডিজিটাল সহকারী তৈরিতে অ্যাপল, মাইক্রোসফট এবং গুগল বেশ আগে থেকেই কাজ করছে। সে প্রতিযোগিতায় এবার যোগ দিল ফেসবুক। তবে ফেসবুকের মূল অ্যাপ কিংবা ওয়েবসাইটে নয়, বরং এম থাকছে তাৎক্ষণিক বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ মেসেঞ্জারের একটি সেবা হিসেবে। সিরি, করটানা কিংবা গুগল নাউয়ের নেপথ্যে কাজ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ফেসবুকের এমের বেলাতেও তাই, তবে সবকিছুর তত্ত্বাবধানে একদল মানুষ কাজ করবে। যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় উত্তর মিলবে না, রক্ত-মাংসের বাস্তব মানুষ সেই কাজগুলো করে দেবে। এ জন্য ফেসবুকের দরকার পড়বে বিশাল এক কর্মীবাহিনীর—হয়তো হাজার হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ দিতে হবে। তবে ফেসবুকের এম মানুষের কাজের ধরন থেকে শিখে পরবর্তী সময়ে নিজেই সব কাজ করতে পারবে বলেই প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাস।

এমের পরীক্ষামূলক সংস্করণ আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রানসিসকোতে সীমাবদ্ধ আছে। ধীরে ধীরে আরও ব্যবহারকারী এম ব্যবহারের সুযোগ পাবে। মানুষ তখন নিজের গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য আরও বেশি সময় পাবে, সে কাজে আরও মনোযোগী হতে পারবে—এমনটাই মনে করে ফেসবুক।
দ্য টেলিগ্রাফ অবলম্বনে মেহেদী হাসান

শাহরুখের খানের খাবারদাবার

৪৯ বছর বয়সেও দারুণ ফিট বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা শাহরুখ খান। কিন্তু শাহরুখ আসলে কী ধরনের খাবার খান? খাবারদাবার নিয়ে নাকি খুব বাছবিচার করেন তিনি। আর শরীর ঠিক রাখতে তিনি যা খান খুব সতর্ক হয়েই খান। ২০০৭ সালের ‘ওম শান্তি ওম’ ছবির শুটিংয়ের সময় থেকেই পরিমিত খাদ্যাভ্যাসের নিয়মকানুন মেনে চলছেন তিনি। কম শর্করা আর বেশি প্রোটিনই তাঁর ফিটনেস ঠিক রাখার রহস্য। গতকাল টিএনএনের এক প্রতিবেদনে শাহরুখের খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টি উঠে এসেছে।

শাহরুখের খাবারদাবার
প্রোটিনে অধিক গুরুত্ব
শাহরুখ খানের খাবারের তালিকায় বেশি থাকে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। মাখন ছাড়া দুধ, চামড়া ছাড়ানো মুরগি, ডিমের সাদা অংশ ও চর্বিহীন মাংস; এসবই তাঁর খাবারের তালিকায় স্থান পায়। খাবারে চর্বি পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভাজার চেয়ে গ্রিল খাবারই বেশি পছন্দ তাঁর। এ ছাড়া মাখনও এড়িয়ে চলেন কিং খান। আর কাজের সময় প্রচুর প্রোটিনসমৃদ্ধ তরল খাবার খান।



চিনিকে ‘না’
চিনি জাতীয় খাবারকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলেন শাহরুখ খান। যখন ডায়েট করেন তখন সাদা আটার রুটিসহ সব ধরনের রুটি বা ভাত এড়িয়ে চলেন তিনি। রিফাইন করা শস্য দানার পরিবর্তে ডিমের সঙ্গে পুরো গমের আটার টোস্ট আর মাঝে-মধ্যে খান চিকেন স্যান্ডউইচ।

প্রিয় শাক-পাতা
শাক-সবজি বেশ ভালোই পছন্দ করেন শাহরুখ খান। শরীর ঠিক রাখতেই প্রয়োজনীয় শর্করার উৎস হিসেবে শাক-সবজি বেছে নেন। প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও পুষ্টির জন্যও তাঁর পছন্দ উদ্ভিদ জাতীয় খাবার। রান্না বা কাঁচা রঙিন সবজি প্রতিদিনই তাঁর খাদ্যতালিকায় থাকে।

মিষ্টির বদলে ফল
মিষ্টির বিকল্প হিসেবে শাহরুখ খান ফল খান বেশি। শরীরের প্রয়োজনীয় শর্করা তিনি ফল থেকে গ্রহণ করেন। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় আঁশ, ভিটামিন, পুষ্টি প্রভৃতি ‘প্রাকৃতিক মিষ্টি’ থেকেই আসে।

খানের পানি পান
প্রতিদিন দুই থেকে তিন লিটার পর্যন্ত পানি পান করেন শাহরুখ খান। এ ছাড়াও চর্বিহীন দুধ, মিষ্টিহীন সবজির রস তাঁর খাদ্যতালিকায় থাকে।

সাত দিনে সুন্দর

চোখের নিচে কালচে দাগ পড়েছে, মুখের ত্বকও মনে হচ্ছে মলিন। চুলে মেহেদি দেওয়া দরকার। হাত-পায়েরও তো যত্ন নেওয়া চাই। সবই করতে হবে, কিন্তু কবে? ছুটির দিনটি কি তবে রূপচর্চাতেই কাটবে? প্রতিদিনই রুটিন করে যদি একটু একটু যত্ন নেন, তাহলে মনে হবে না ছুটির দিনের বেশির ভাগ সময় চলে গেল এই রূপচর্চা করতে করতেই। সপ্তাহের সাত দিনের একটি ‘রূপ-রুটিন’ তৈরি করবেন কীভাবে, সে পরামর্শই দিয়েছেন গীতি’স বিউটি পারলারের রূপবিশেষজ্ঞ গীতি বিল্লাহ। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনের একটু একটু সৌন্দর্যচর্চার কারণেই নিজেকে সতেজ মনে হবে সর্বদা।’

সাত দিনে সুন্দর

শুক্রবার
তাহলে, এ দিনটি থেকেই শুরু করুন। ছুটির দিন বলে বাড়তি একটু সময়ও পাবেন। চুলে মেহেদি বা অন্য কোনো প্যাক লাগিয়ে ভালোভাবে শ্যাম্পু করে নিন। কিংবা অয়েল ম্যাসাজও করতে পারেন। কেউ কেউ বাড়িতেই রং করেন চুলে, এ দিনটি ব্যবহার করতে পারেন সে কাজেও। গোসলের আগে হাত-পায়ের নখ কেটে নিন। পেডিকিওর বা ম্যানিকিওর করতে পারেন। যেকোনো একটি করুন এই দিনে।
শনিবার
এই দিনটিতেও অনেকের সাপ্তাহিক ছুটি থাকে। পারলারে যদি কাজ থাকে যেমন চুল ছাঁটানো, ফেসিয়াল কিংবা ভ্রু প্লাক—তবে এসবের জন্য বেছে নিন এ দিনটিকেই। শুক্রবারের তুলনায় এ দিনটিতে কিছুটা কম ভিড় থাকে পারলারে। ব্যক্তিগত কাজ বেশি থাকলে শুক্রবারের রূপ রুটিনের কিছু কাজ এই শনিবারেই করুন। যেমন পেডিকিওর শুক্রবারে করলে ম্যানিকিওরের কাজটি করে নিন এই দিনে।
রোববার

শুরু হয়ে গেল সেই প্রাত্যহিক দৌড়ঝাঁপ। সকালে যেহেতু অফিস কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার ব্যস্ততা। তাই সকালটা বাদ দিয়ে বাসায় ফিরে সন্ধ্যায় টিভি দেখতে দেখতে কিংবা বাড়ির কোনো কাজ করতে করতে সেরে ফেলতে পারেন নিত্য-রূপচর্চা। এদিন নজর দিন ছোটখাটো বিষয়ে। অনেকের ঠোঁটের রং কিছুটা কালো থাকে। কয়েক ফোঁটা পাতিলেবুর রস, মধু ও যেকোনো ম্যাসাজ ক্রিম মিশিয়ে ঠোঁটের জন্য প্যাক বানিয়ে নিন। দিনে দুবার ঠোঁটে ম্যাসাজ করুন। মাস খানেক নিয়মিত ম্যাসাজেই উপকার পাবেন। এভাবে ত্বকের অন্য যেকোনো ছোটখাট সমস্যার জন্য সময় রাখুন প্রতি রোববারে।

সোমবার
সোমবার দিনটিতে নজর দিতে পারেন কনুই, হাঁটু, পায়ের পাতার দিকে। এসব অংশের ত্বকে কালো ছোপ ছোপ দাগ পড়ে অনেকের। এ জন্য দুই চা-চামচ লবণ, দুই চা-চামচ চিনি আর এক চা-চামচ খাবার সোডা নিয়ে তাতে পরিমাণমতো পাতিলেবুর রস ও শসার রস মিশিয়ে প্যাক বানান। এবার কালো হয়ে যাওয়া অংশে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। এরপর ভালো করে পানি দিয়ে ধুয়ে সামান্য ক্রিম দিয়ে ম্যাসাজ করে নিন।

মঙ্গলবার
চোখের নিচে কালো দাগ যাঁদের, মঙ্গলবার তাঁরা খোসাসহ আলু বেটে চোখের নিচে লাগাতে পারেন। ইচ্ছে করলে অন্যান্য রূপচর্চার পাশাপাশি করে নিতে পারেন এ কাজটিও। তাহলে সময়ও বেঁচে যাবে অনেকটা।

বুধবার
এ দিনটি রাখুন চুলের জন্য। খুশকির সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের চাই নিয়মিত যত্ন। এর জন্য সমপরিমাণ লেবুর রস আর খাঁটি নারকেল তেল একসঙ্গে গরম করে নিন। চুলের গোড়ায় গোড়ায় ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। এরপর হট টাওয়েল ট্রিটমেন্ট নিন। এ পদ্ধতিটি খুব সহজ। আগে থেকেই পানি গরম করে রাখুন। তেল ম্যাসাজ হয়ে গেলে ১০ মিনিট পর গরম পানিতে একটি পরিষ্কার তোয়ালে ডুবিয়ে দিন। তোয়ালের পানি কিছুটা চেপে ফেলে দিন। এরপর তোয়ালে দিয়ে মাথা পেঁচিয়ে নিন যেন গরম ভাপটুকু চুলে লাগে। এভাবে দু-তিনবার তোয়ালে দিয়ে ভাপ দিন। সব শেষে শ্যাম্পু করে ফেলুন। নিয়মিত এটি করলে খুশকি কমবে। মনে রাখবেন, খুশকিমুক্ত চুলের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জরুরি। বালিশের কভার সপ্তাহে একবার বদলে নিন। দিনে বার দুয়েক পরিষ্কার চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিন।

বৃহস্পতিবার
পরের দিনই ছুটি। তাই মনটা বেশ ফুরফুরে থাকে বোধ হয় এই বৃহস্পতিবারই। আবার অনেকের থাকে রাতের দাওয়াত। এদিন তেমন ব্যস্ততা না থাকলে পুরো সপ্তাহের ক্লান্তি কাটাতে কিছু প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। রোদে যদি মুখের ত্বক পুড়ে যায়, তাহলে জাম পাতা ও আম পাতা বেটে এর মধ্যে হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে মুখে লাগাতে পারেন৷ এতে ত্বক উজ্জ্বল হবে৷ আবার কালো ছাপ পড়লে চিনির রসের মধ্যে লবণ মিশিয়ে আলতো হাতে ত্বকে মালিশ করুন। এতে দাগ দূর হবে, ত্বকের মরা কোষও উঠে যাবে।
এভাবে রোজকার রূপ-রুটিন মেনে চললে দেখবেন—‘সময়ের অভাবে করা হচ্ছে না কিছুই’—এ আক্ষেপ আর করতেই হবে না।

বাঁশ দিয়ে স্মার্টফোন

বাঁশ দিয়ে স্মার্টফোন
ম্যাক্সিমাসের তৈরি আইএক্স কেইন নামের একটি মোবাইল স্মার্টফোন রয়েছে, যা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশের বিশেষ উপাদান। কোয়ারটেল ইনফোটেক লিমিটেডের মালিকানাধীন ম্যাক্সিমাস মোবাইল বাংলাদেশের বাজারে এই ফোনটি বিক্রি করছে। ম্যাক্সিমাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্মার্টফোনটির কাঠামো তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে জাপানের বিশেষ ধরনের বাঁশের উপাদান।

আইএক্স কেইনের স্মার্টফোনটির পেছনে রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেল অ্যাডভান্সড এইচডি ক্যামেরা। সনি ইএক্সএমওআর সেন্সর সুবিধার এই ক্যামেরায় তোলা ছবির মান তুলনামূলকভাবে অনেক উন্নত। স্মার্টফোনটির সামনে রয়েছে দুই মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। স্বল্প আলোতে ভালো ছবি তোলার সুবিধার জন্য স্মার্টফোনটিতে রয়েছে পাঁচটি মাল্টিলেয়ার কোটিং লেন্স, যার অ্যাপারচার এফ ২.৪।
ম্যাক্সিমাস কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশের বাজারে উন্নত স্মার্টফোন বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে তারা। আইএক্স কেইন স্মার্টফোনটিতে এক দশমিক ৩৬ গিগাহার্টজ কোয়াডকোর প্রসেসর, মিডিয়াটেকের এমটিকে ৬৫৮২ চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে। পাঁচ ইঞ্চি মাপের আইএক্স কেইন স্মার্টফোনটির ডিসপ্লে রেজুলেশন ১২৮০ বাই ৭২০ পিক্সেল। ডিসপ্লে সুরক্ষার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে কর্নিং গরিলা গ্লাস থ্রি। স্মার্টফোনটিতে রয়েছে মালি ৪০০ জিপিইউ এবং এক জিবি র‍্যাম ও আট জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ।

অ্যান্ড্রয়েড কিটক্যাট অপারেটিং সিস্টেমের এই ফোনটি অ্যান্ড্রয়েড ৫.১ বা ললিপপে হালনাগাদ করে নেওয়া যায়। এর ব্যাটারি দুই হাজার ১০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার। দুই সিম সুবিধার ফোনটিতে ওটিএ, ওটিজি, থ্রিজি, এফএম রেডিও ব্লু-টুথ, ওয়াই-ফাই হটস্পট এবং মাইক্রো ইউএসবি ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে।
দেশের বাজারে ১৩ হাজার ৯৯৯ টাকায় এই স্মার্টফোনটি বিক্রি করছে মাইক্রোম্যাক্স।

গেম এবার ইউটিউবে

গেম এবার ইউটিউবে
ভিডিও দেখার ওয়েবসাইট ইউটিউব এবার চালু করছে গেম খেলার আলাদা সাইট। শুধু গেম নিয়ে নানা কিছু থাকবে এতে। আগ্রহী ব্যক্তিরা সরাসরি গেম খেলতে পারবেন এখানে।

সাইটটি গেমারদের কথা ভেবে বানানো হয়েছে। ইউটিউবের এ গেমসাইটে অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগও থাকবে। একই ধরনের সেবা বর্তমানে অ্যামাজন ডটকমের মালিকানাধীন টুইস ও ডেইলি মোশন দিচ্ছে। ইউটিউবে বর্তমানে প্রতি মাসে কয়েক কোটি ঘণ্টা ভিডিও দেখেন ব্যবহারকারীরা। এ ছাড়া ইউটিউবে সবচেয়ে বেশি অনুসারী তারকা ফেলিক্স কেজেলবার্গ, যিনি পিউডাইপাই নামে পরিচিত, তিনিও একজন জনপ্রিয় গেমার। ইউটিউবের গেমিং বিভাগের প্রধান রায়ান ওয়াট বলেন, ‘আমরা এমন একটি জায়গা তৈরি করতে চাই, যেখানে একজন গেমার তাঁর পছন্দের গেম নিয়ে অনেক কিছুই পাবেন।’
ইউটিউবের এ গেমসাইটে সরাসরি (লাইভ) গেম খেলার সুযোগও থাকছে। ইতিমধ্যে কোটি দর্শক, যাঁরা ইউটিউবে ভিডিও দেখছেন, তাঁদের বড় একটি অংশই গেম খেলার আগ্রহী হবে বলে আশাবাদী ইউটিউব কর্তৃপক্ষ। এর আগেও শুধু সংগীত নিয়েই ‘মিউজিক কি’ নামের সংগীত-বিষয়ক একটি সেবা চালু করেছিল ইউটিউব। নতুন এই গেমসাইটের বিস্তারিত জানা যাবে gaming.youtube.com ঠিকানায়। বিবিসি

অ্যাপস দিয়ে কেনা যাবে চালডাল


অনলাইন ভিত্তিক বেচাকেনার ওয়েবসাইট চালডাল ডটকম চালু করেছে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস। স্মার্টফোনে এ অ্যাপটি ইনস্টল করে এই ওয়েবসাইট থেকে চাল-ডালসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের ফরমায়েশ দেওয়া যাবে।
চালডাল ডট কমের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা জিয়া আশরাফ জানিয়েছেন, গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে চালডাল লিখে সার্চ দিলেই চালডাল ডট কমের অ্যাপস পাওয়া যাবে। এ ছাড়া অ্যাপসটি ব্যবহার করে যেকোনো পণ্যের প্রথম অর্ডারে ৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
জিয়া আশরাফ জানান, ২০১৩ সালে কাজ শুরু করার পর চালডাল। বর্তমানে প্রতিদিন তিন শর বেশি গ্রাহক চালডাল থেকে নিয়মিত পণ্য কেনেন।
চালডালের পণ্য ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিন ঘণ্টার মধ্যে ঢাকার মধ্যে পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে চালডালের টিম। দিনে তিনবার ক্রেতার অর্ডার পৌঁছে দেয় চালডাল ডট কম। পণ্য হাতে পাওয়ার পর যদি সেটি পছন্দ বা মানসম্মত না হয় তাহলে পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে সে পণ্য ফেরতও নেওয়া হয়। চালডাল ডট কমে (Chaldal. com) চাল, ডাল, তরকারি, সবজি, মাছ, মাংস, ফ্রোজেন ফুড, সাবান, টুথপেস্ট, শ্যাম্পু, স্টেশনারি পণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব ধরনের পণ্য পাওয়া যায়।

রাশিয়ায় উইকিপিডিয়া বন্ধ

গাঁজা নিয়ে কনটেন্ট না সরানোয় উন্মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়া বন্ধ করে দিয়েছে রাশিয়া। সম্প্রতি দেশটির অনলাইন নিয়ন্ত্রক সংস্থা রস্কোমনাদজর (Roskomnadzor) দেশটির ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে (আইএসপি) রাশিয়ান ভাষার উইকিপিডিয়া বন্ধ করে নির্দেশ দিয়েছে।
বর্তমানে ২৯১টি ভাষায় উইকিপিডিয়া রয়েছে, যার মধ্যে একটি রাশিয়ান ভাষার উইকিপিডিয়া (ru.wikipedia.org)। রাশিয়ান ভাষার এ সংস্করণে বর্তমানে নিবন্ধের সংখ্যা ১০ লাখের বেশি এবং প্রতি মাসে পেজ ভিউ প্রায় ১০০ কোটি।
রাশিয়ায় উইকিপিডিয়া

মূলত মাদক সংশ্লিষ্ট নিবন্ধ নিয়ে উইকিপিডিয়ার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে নিবন্ধ মুছে ফেলার নির্দেশ দেয় রাশিয়ার অনলাইন নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। উইকিপিডিয়া ওই নিবন্ধ না মোছার কারণে পুরো সাইটটি বন্ধের নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।
রস্কোমনাদজরের দাবি, রাশিয়ার কনটেন্ট প্রকাশের নীতিমালা ভঙ্গ করায় উইকিপিডিয়া বন্ধ করতে হচ্ছে।
উইকিপিডিয়া পরিচালনকারী সংস্থা উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন বলছে, উইকিপিডিয়ার লক্ষ্যের সঙ্গে এ ধরনের সেন্সরশিপ যায় না।
উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ যোগাযোগ কর্মকর্তা জুলিয়েট বারবারা প্রথম আলোকে জানান, যে নিবন্ধটি নিয়ে আপত্তি উঠেছে তা নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও সংশোধন করা হয়েছে। গ্রহণযোগ্য তথ্যসূত্র দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিষয়টি সবার কাছে তুলে উইকিমিডিয়া রাশিয়া কমিউনিটির পক্ষ থেকে একটি ব্যানারও যুক্ত করা হয়েছে। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা দুঃখজনক।

সম্প্রতি রাশিয়ায় রেডইট সাইটটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। উইকিপিডিয়ার বিকল্প তৈরিরও উদ্যোগও নিয়েছে রাশিয়া।
(বিজনেস ইনসাইডার, উইকিপিডিয়া কমিউনিকেশন, টেক ক্রাঞ্চ)

হার্ডড্রাইভের জায়গা নেবে ডিএনএ?

ডিএনএ বা ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। ডিএনএতে সংরক্ষিত দরকারি জ্ঞান হাজার বছর ধরে সংরক্ষণ করে রাখা সম্ভব বলেই তাঁদের মত। আজ ডেইলি টেলিগ্রাফের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ডিএনএ
ডিএনএতে তথ্য সংরক্ষণ করে রাখার সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করে দেখছেন গবেষকেরা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা দীর্ঘ সময় ধরে ডিএনএতে সংরক্ষিত তথ্য ডাউনলোড করার একটি পরীক্ষা চালিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, পরবর্তী লক্ষ্য হচ্ছে এক বিন্দু তরলের ওপর ভাসমান ডিএনএ তন্তু থেকে তথ্য খুঁজে বের করে আনার পদ্ধতি বের করা।
প্রধান গবেষক রবার্ট গ্র্যাস বলেন. কম্পিউটারের যেমন বাইনারি ভাষা আছে, তেমনি ডিএনএর একটি পৃথক ভাষা আছে। ডিএনএর ভাষা বাইনারি ভাষার চেয়ে পৃথক। কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ মূলত তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ওয়ান ও জিরো কোড হিসেবে ব্যবহার করে। কিন্তু ডিএনএর কোড লেথা হয় চারটি রাসায়নিক নিউক্লিওটাইড সিকোয়েন্সের ওপর। নিউক্লিওটাইড এক ধরনের জৈবিক অণু যা মনোমার এবং ডিএনএ ও আরএনএর সাব ইউনিট হিসেবে কাজ করে। নিউক্লিওটাইড কোষে শক্তির প্যাকেট নিয়ে যায় নিউক্লিওসাইড ট্রাইফসফেটের (এটিপি, জিটিপি, সিটিপি এবং ইউটিপি) আকারে যা বিপাকীয় প্রক্রিয়াতে মূল ভূমিকা পালন করে থাকে।
গবেষকেদের দাবি, ক্ষুদ্র পরিসরে অনেক বেশি তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে ডিএনএ। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল-স্থায়িত্ব।
গবেষক গ্র্যাস বলেন, তত্ত্ব অনুযায়ী, এক আউন্সের চেয়েও কম ডিএনএতে তিন লাখ টেরাবাইটের বেশি তথ্য সংরক্ষণ করে রাখা যায়। গবেষকেরা বলেন, হাজারো বছরের পুরোনো ডিএনএ আজও পরীক্ষা করে তথ্য বের করা যায়।

গ্যাস শনাক্ত করবে স্মার্টফোন!

সম্প্রতি ফিনল্যান্ডের গবেষকেরা স্মার্টফোনে ব্যবহার উপযোগী একটি ক্ষুদ্রাকৃতির সেন্সর তৈরি করেছেন। সেন্সরটি স্মার্টফোনে ব্যবহার করা হলে তা বাতাসের নমুনা অনুযায়ী গ্যাসের ধরন ও পরিমাণ শনাক্ত করতে পারবে। গতকাল সোমবার পিটিআইয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
Gas identyfier
গবেষকেদের দাবি, স্মার্টফোনের সেন্সর ব্যবহার করে ঘরের ভেতর বায়ু-সমস্যা নির্ণয় করা যাবে। এ ছাড়াও স্মার্টফোনের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে ঘরে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা নির্ণয় করা যাবে। এতে ঘুমের পরিবেশ ঠিক আছে কি না, তা দেখা যাবে।
গ্যাসের ঘনত্ব পরিমাপের জন্য স্মার্টফোন ব্যবহারে অনেকে সেন্সর নির্মাতাদের আগ্রহ রয়েছে।
ফিনল্যান্ডের ভিটিটি টেকনিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের গবেষক আনা রিসানেন বলেন, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) বা সব যন্ত্রে ইন্টারনেট ধারণার বিস্তৃতির কারণে স্মার্টফোন থেকে তথ্য সংগ্রহের আগ্রহ বাড়ছে।

প্যাটার্ন লকের দুর্বলতা

pattern lock weakness

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের প্যাটার্ন লক সহজেই অনুমান করা যায় বলে খুব সহজেই অন্য কেউ চাইলেই লক খুলে ফোনে ঢোকার সুযোগ করে দিতে পারে। সাধারণ পাসওয়ার্ডের মতোই সবারই সহজ প্যাটার্ন লক বেছে নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য পেয়েছেন নরওয়ের গবেষকেরা।


গবেষকেরা জানিয়েছেন, প্রচলিত পাসওয়ার্ডের পরিবর্তে অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারীরা তাদের ফোনের স্ক্রিনে একটি প্যাটার্ন লক তৈরি করার সুবিধা পান। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে— ফোনে সহজে অনুমান করা যায় না অথচ খুব সহজ একটা নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করা। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও পাসওয়ার্ডের মতো একই ভুল অধিকাংশ ব্যবহারকারীকে করতে দেখা যায়।

নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষক মার্টল লজ বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, চার লাখ সম্ভাব্য কোড তৈরির সম্ভব হলেও চার হাজার কোডের মধ্যে ব্যাপক মিল দেখা গেছে। এর মধ্যে ৪৪ শতাংশ আবার ওপরের দিক থেকে শুরু হয়ে বাম দিকের কোনায় এসে শেষ হয়। ৭৭ শতাংশ প্যাটার্ন চার কোনার যেকোনো একটি কোনা থেকে শুরু হয়। অ্যান্ড্রয়েডে প্যাটার্ন তৈরির জন্য নয়টি ‘নড’ থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাত্র চারটি নড ব্যবহার করতে দেখা যায়।

প্যাটার্ন তৈরির ক্ষেত্রে গবেষকেদের পরামর্শ হচ্ছে, যত বেশি নড ব্যবহার করা যায় প্যাটার্ন তত বেশি জটিল হয়। প্যাটার্ন অধিক নিরাপদ করতে এটি তৈরির সময় বেশি দিক পরিবর্তন করা উচিত। যত বেশি সম্ভব নড ব্যবহার করে প্যাটার্ন জটিল করা উচিত। (দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট)

রাত পোহানোর কবি


অ মা! তোমার বাবার নাকে কে মেরেছে ল্যাং?/ খ্যাঁদা নাকে নাচ্ছে ন্যাদা-নাক ডেঙাডেং ড্যাং!’ এমন মজার ছড়া তোমাদের জন্য কে লিখেছেন বলো? কবি কাজী নজরুল ইসলাম। গতকাল ছিল তাঁর মৃত্যুদিন। প্রিয় এই কবির ছেলেবেলার রোমাঞ্চকর গল্পগুলো কখনো পুরোনো হয় না।



আজ আমরা একজন মানুষের গল্প শুনব। তাঁর শৈশব-কৈশোর আমাদের মতো আনন্দে-আহ্লাদে, ভালোবাসায়-আদরে কাটেনি। তিনি বড় হয়েছিলেন দুঃখে-কষ্টে-অনাদরে। কিন্তু তিনি হেরে যাননি, জয়ী হয়েছিলেন।

দেখি চিনতে পারো কি না তাঁকে। তিনি বাংলা ভাষার খুব বড় কবি ছিলেন। বাল্যকালে তাঁকে ‘তারা খ্যাপা’, ‘নজর আলী’, ‘দুখু মিয়া’ নামে ডাকা হতো। বড়দের জন্য যেমন সাহিত্য রচনা করেছেন, তেমনি আমাদের শৈশব-কৈশোরের বই পড়ার আনন্দকে তিনি বাড়িয়ে দিয়েছেন বহুগুণ। আর কেউ নন, তিনি আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

আমাদের সঙ্গে মিলিয়ে নিই তাঁকে
শৈশব তাঁর বোধকরি মোটামুটি ভালোই কাটছিল। কিন্তু ১৯০৮ সালে মাত্র নয় বছর বয়সে তাঁর বাবা মারা যান। শুরু হয় দুঃখের জীবন। দারুণ অর্থকষ্টে পড়ে যায় নজরুল ও তাঁর পরিবার। দশ বছর বয়সে প্রাথমিক পেরিয়ে তিনি চুরুলিয়া গ্রামের মক্তব, মসজিদ দেখাশোনার কাজ করে অর্থ উপার্জন শুরু করেন। এগারো বছর বয়সে যোগ দেন লেটোগান ও যাত্রার দলে। অবাক কাণ্ড! বারো-তেরো বছর বয়সে তাঁর নাটক রচনা এত ভালো হতে লাগল যে তিনি একসঙ্গে তিনটি লেটোগানের দলে নাটক রচনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন। এমনকি তিনি তাদের জন্য তাৎক্ষণিক গানও লিখে দিতেন। বড় বড় কবিয়ালের সঙ্গে কবির লড়াইও করতেন মাঝেমধ্যে। একরত্তি ছেলের এত পারদর্শিতা দেখে বড়রা তাঁকে সমীহ করে ‘খুদে ওস্তাদ’ আর ইয়ার্কি করে ‘ব্যাঙাচি’ বলত। কবির লড়াইয়ে গেলে খুদে নজরুল কাউকে ছেড়ে কথা বলতেন না।
এত্ত সব করেও নজরুল কিন্তু লেখাপড়া ছাড়েননি! ১৯১১ সালে ঠিকই তিনি ভর্তি হন ষষ্ঠ শ্রেণিতে। কিন্তু টাকার অভাবে বেশি দিন পড়তে পারেননি। এরপর রুটির দোকান, মানুষের খাবার পৌঁছে দেওয়া; নানা ধরনের কাজ করেছেন। এক দরদি পুলিশ অফিসার তাঁকে ময়মনসিংহে এনে দরিরামপুর স্কুলে ভর্তি করেন সপ্তম শ্রেণিতে। পরীক্ষায় প্রথম হলেও সেখান থেকে দেশে চলে গিয়ে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সিয়ারসোল স্কুলে পড়ে ১৯১৭ সালে নজরুল সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
নজরুল মচকেছেন কিন্তু ভেঙে পড়েননি। ঠিকই তিনি একদিন হয়ে উঠলেন ‘বিদ্রোহী কবি’ কাজী নজরুল ইসলাম।

.তোমাদের জন্য লেখা
নিজের শৈশব-কৈশোর ভালো না কাটলেও তিনি তাঁর ছড়া, কবিতা, গানের মধ্যে আমাদের জন্য সৃষ্টি করে গিয়েছেন এক আনন্দের জগৎ।
এক রঙের পোশাক পরতে কারই-বা ভালো লাগে বলো! আর প্রতিদিন স্কুলে যেতেই বা কাঁহাতক মন চায়! নিশ্চয়ই আমরা সবাই চাই প্রজাপতির পাখার মতো রঙিন পোশাক। আহা! ঝিলিমিলি রঙের জামা পরে যদি প্রজাপতিদের সঙ্গে উড়ে উড়ে ঘুরে বেড়ানো যেত! কতই না মজা হতো! মন চাইলে বিচিত্র রঙের ‘টুলটুলে’ ফুলে বসে মধু খেতে পারতাম! নজরুল কী অসাধারণভাবেই না লিখেছেন—‘মোর মন যেতে চায় না পাঠশালাতে/ প্রজাপতি, তুমি নিয়ে যাও সাথে ক’রে তোমার সাথে/ এই জামা ভাল লাগেনা/ দাও জামা ঐ ছবি আঁকা।’
চুরি করা ভালো নয়। কিন্তু সেটা যদি হয় ফন্দি-ফিকির করে কারও বাগানের পাকা লিচু চুরি করে খাওয়া, তাহলে দুষ্টু ছেলের দলে ভিড়ে লিচু চুরি করতে কার না ইচ্ছে করে! কেউ উঠেছে গাছে, আর কেউ রয়েছে গাছের নিচে। এমন সময় যদি মালিকের কুকুরটা এসে পড়ে, সেই দুর্গতির কি আর শেষ আছে! তখন গাছ থেকে ‘মালির ঘাড়ে’ না পড়ে উপায় থাকে! বেচারা লিচু চোরের জন্য দুঃখও হয়, আবার হাসিও পায়...! নজরুল যখন ‘লিচু-চোর’ ছড়ায় এই বর্ণনা দেন, তখন তা আরও মজাদার হয়ে ওঠে। আমরাও একঘেয়ে পড়া থেকে একটু মুক্তি পেয়ে কল্পনায় ঘুরে আসতে পারি ‘বাবুদের তাল-পুকুর’ থেকে। অথবা ‘খুকী ও কাঠ্বেরালি’ কবিতার খুকীর মতো জমিয়ে কথা বলে আসতে পারি কাঠ্বেরালির সঙ্গে। শুধু তা-ই নয়, দেশমাতাকে এ-ও বলতে পারি যে ‘আমরা যদি না জাগি মা/ কেমনে সকাল হবে?/ তোমার ছেলে উঠলে মাগো/ রাত পোহাবে তবে!’

ফেসবুকে আপনি কি নিরাপদ?

হুট করে দেখলেন আপনার ফেসবুক দেয়ালে বিব্রতকর কিছু ছবি চলে এসেছে! তাও আবার আপনার বন্ধু তালিকায় থাকা কারও কাছ থেকে। আপনার বন্ধু তালিকায় থাকা অন্যরা যখন আপনার দেয়ালে এসে সেই ছবিগুলো দেখে বিব্রত হবেন। আবার যাঁর মাধ্যমে ছবিগুলো এসেছে, তাঁর সম্পর্কেও আপনার বিরূপ ধারণা হতে পারে। এ ছাড়া আপনার অতি ব্যক্তিগত ছবি কিংবা তথ্য ফেসবুকে আছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত কেউ ব্যবহার করলেও আপনি বিপদে পড়তে পারেন। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেস্কটপ ও মোবাইল ফোন থেকে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন সেবা ব্যবহার করছেন অনেকেই। ওয়েবসাইটের পরিসংখ্যান জানানোর ওয়েবসাইট অ্যালেক্সার তথ্যমতে, বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট হলো ফেসবুক। ব্যবহারের সময় যথেষ্ট সতর্ক না হওয়ায় ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি অনাকাঙ্ক্ষিত কারও ব্যবহার করা, অ্যাকাউন্ট বেহাত (হ্যাকড) হওয়ার মতো ঘটনাগুলো বাড়ছে। অথচ সাধারণ কিছু কৌশল জানা থাকলে এ রকম ঘটনা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।
ফেসবুকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা
ফেসবুক
 ফেসবুকে নিয়মিতই বন্ধু যোগ করার অনুরোধ (ফ্রেন্ড রিেকায়েস্ট) আসে। তবে বন্ধু যোগ করার আগে নিশ্চিত হয়ে দেখে নিন সত্যিই তিনি আপনার পরিচিত কি না। কিংবা প্রোফাইলটি সত্যিই তাঁর কি না। বন্ধু যোগ করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আপনার আগের বন্ধুদের মতো আপনার ব্যক্তিগত বিভিন্ন তথ্য, ছবি, পোস্ট দেখা এবং সেখানে মন্তব্য করার সুযোগ পাবেন। তবে যেকোনো সময়ই বন্ধু তালিকা থেকে যে-কাউকে সরিয়ে দেওয়া যায়। তাই বন্ধু তালিকাটি এখন আবার যাচাই করে নেওয়া যেতে পারে।
ফেসবুক কেন ব্যবহার করছেন

ফেসবুক কেন ব্যবহার করছেন, সেটি নিজে আরও একবার ভেবে নিন। বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা, নিজের পছন্দগুলো সবাইকে জানিয়ে দেওয়া, ব্যক্তিগত সাফল্য, বিভিন্ন কার্যক্রম প্রকাশের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা ছাড়াও আরও অন্য কাজে একটি সহায়ক মাধ্যম হতে পারে এই ফেসবুক। তবে কী করছেন, সেটি নিশ্চিত হয়েই করা উচিত। অন্যথা কোনো কিছু প্রকাশ করার পরে মনে হতে পারে সেটি প্রকাশ না করাই ভালো ছিল।
ফেসবুকে অ্যাপ ব্যবহার করা
গেমসহ বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে ফেসবুকে। নতুন কোনো ফেসবুক অ্যাপ ইনস্টলের সময় দেখে নেওয়া উচিত এটি ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের কী কী তথ্য দেখা বা ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছে। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারীর এবং তাঁর বন্ধুদের ওয়ালে কোনো কিছু পোস্ট করে কি না তাও দেখা উচিত। পুরো নিশ্চিত হয়ে অ্যাপ ইনস্টল করুন।
গোপন নম্বর বা পাসওয়ার্ড
ফেসবুক
ফেসবুকে গোপন নম্বর বা পাসওয়ার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। নিয়মিতভাবে কিছুদিন পরপর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা উচিত। আবার পরিবর্তন করা হলেও এমন কিছু ব্যবহার করা উচিত না, যেন অন্য কেউ সহজেই অনুমান করে বুঝে ফেলতে পারে। ফোন নম্বর, জন্মতারিখ, বাসার ঠিকানা, এলাকার নাম, দেশের নাম, রোল নম্বর, নিজের পরিচিত কোনো মানুষ বা বন্ধুর নাম ইত্যাদি কখনোই পাসওয়ার্ড হিসাবে ব্যবহার করা উচিত না।
প্রাইভেসি সেটিংস
ফেসবুকের প্রাইভেসি সেটিংসগুলো সঠিকভাবে নির্ধারণ করা আছে কি না, সেটি সহজেই পরীক্ষা করার জন্য একটি অপশন যোগ করা হয়েছে। লগ–ইন করার পরে ওপরের মেনু থেকে তালার মতো দেখতে আইকনে ক্লিক করলে প্রাইভেসি বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা-সংক্রান্ত সাধারণ করণীয়গুলো দেখা যাবে। Privacy Checkup অপশনটি ব্যবহার করে প্রাইভেসি সেটিংসগুলো যাচাই করা যাবে। www.facebook.com/settings?tab=privacy ঠিকানা থেকে অন্য সেটিংসগুলো নির্ধারণ করা যাবে।
প্রাইভেসি সেটিংসে কোনটার মানে কী?
Who can see my stuff?
আপনার প্রকাশ করা তথ্যগুলো কারা দেখতে পাবেন, সেটি নির্ধারণ করা যায় এখানে। সাধারণভাবে Friends নির্বাচন করা উচিত।
Who can contact me?
কোন ব্যবহারকারী ইনবক্সে বার্তা পাঠাতে পারবেন, সেটি নির্বাচন করা যাবে এখানে। এ ছাড়া কারা আপনাকে বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠাতে পারবেন, সেটিও নির্ধারণ করা যায় এই অংশ থেকে।
How do I stop someone form bothering me?
ফেসবুকে আপনি কাউকে ব্লক করতে চাইলে এই অংশ থেকে সহজেই কাজটি করা যাবে। যাঁকে ব্লক করা হচ্ছে, সেই ব্যবহারকারী আপনার কোনো তথ্য দেখতে পাবেন না এবং আপনিও তাঁর কোনো তথ্য দেখতে পারবেন না।
নিরাপত্তা
www.facebook.com/settings?tab=security ওয়েব ঠিকানা থেকে সরাসরি সিকিউরিটি সেটিংস পাতায় যাওয়া যাবে।
Log–in Alerts: নতুন কোনো যন্ত্র থেকে লগ–ইন করা হলে ই-মেইল এবং মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
Log–in Approvals: নতুন যন্ত্র থেকে লগ–ইন করা হলে এসএমএসের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
Code Generator: নতুন লগ–ইন করার সময় ফেসবুক অ্যাপ থেকে নিরাপত্তা সংকেত ব্যবহার করে
লগ–ইন করতে পারবেন।
App Passwords: অ্যাপের ক্ষেত্রে মূল পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করে অ্যাপের জন্য নির্ধারিত অন্য পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা।
Trusted Contacts: বন্ধু তালিকার বিশেষ কয়েকজনকে এই তালিকায় যোগ করা যাবে, কখনো যদি আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকতে সমস্যা হয়, তবে তাঁদের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নিজেদর অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করা যাবে।
Browsers and Apps: কোন কোন অ্যাপ বা ব্রাউজার থেকে নিয়মিত ব্যবহার করা হয়।
Where You’re Logged In: বর্তমানে কোন কোন যন্ত্র থেকে লগইন আছেন, সেটি যাচাই করা।
Deactivate Your Account: অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করা।
টাইমলাইন ও ট্যাগ
ফেসবুক সেটিংস পাতার Timeline and Tagging মেনু থেকে অথবা সরাসরি এই www.facebook.com/settings?tab=timeline থেকে টাইমলাইন ও ট্যাগ-সংক্রান্ত সেটিংগুলো নির্ধারণ করা যাবে। পাতার সেটিংসগুলো নিচের মতো তিনটি ভাগে আলাদা করা থাকে।
Who can add things to my timeline? কারা আপনার প্রোফাইলে কোনো কিছু দিতে পারবেন, সেটি নির্ধারণ করা যাবে এখানে। পোস্টগুলো সবার কাছে প্রকাশের আগে আপনার অনুমতি লাগবে, সে ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে।
Who can see things on my timeline?
টাইমলাইনে অন্য কেউ পোস্ট করলে বা কোনো পোস্টে আপনাকে ট্যাগ করা হলে কারা সেই পোস্টগুলো দেখতে পারবেন, সেটি নির্বাচন করে দেওয়া যাবে এখানে। পাশাপাশি কোনো নির্দিষ্ট ব্যবহারকারী অথবা অন্য সবাই আপনার প্রোফাইলের কোন কোন অংশ দেখতে পাচ্ছেন, সেটিও যাচাই করা যাবে এখান থেকে।
How can I manage tags people add and tagging suggestions? কোনো ছবি বা পোস্টে ট্যাগ করা হলে অন্য সবার কাছে প্রকাশের আগে আপনি রিভিউ করে অনুমতি দেওয়ার অপশনটি সক্রিয় করতে পারবেন এখান থেকে। পাশাপাশি ট্যাগ করা পোস্টগুলো দেখা এবং কারা ট্যাগ করার জন্য সাজেশন পাবেন, সেটিও নির্ধারণ করে দেওয়া যেতে পারে।
ফিশিং সাইট
ফেসবুক ছাড়া অন্যান্য অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে লগ–ইন করা থেকে বিরত থাকা উচিত। অনেক সময় বিভিন্ন ওয়েব ঠিকানা বা লিংক খোলার সময় ফেসবুক ব্যবহারকারী নাম ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করতে অনুরোধ করে। এই পদ্ধতিতে অনেক সময় ফেসবুকের ব্যবহারকারী নাম ও পাসওয়ার্ড অন্যরা চুরি করতে পারেন।

নতুন কোনো যন্ত্র থেকে লগ–ইন
কখনো কখনো হয়তো সাইবার ক্যাফে, অন্যের কম্পিউটার কিংবা মুঠোফোন থেকে ফেসবুকে ঢোকার (লগ–ইন করা) প্রয়োজন হতে পারে। নতুন কোনো যন্ত্র থেকে লগ–ইন করতে হলে যার যন্ত্র বা যে কম্পিউটার থেকে লগইন করা হচ্ছে, তা নির্ভরযোগ্য কি না ভেবে দেখুন। লগ–ইন করা পর ‘remember you’ বাটনে ক্লিক করে অথবা ব্রাউজারের ‘Save Password’ অপশন ব্যবহার করে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করবেন না। কারণ, এর ফলে পরবর্তী সময়ে অন্য ব্যবহারকারী এই পাসওয়ার্ড দিয়ে আপনার ফেসবুক ব্যবহার করতে পারেন।
ফেসবুকে কী প্রকাশ করবেন, কী করবেন না
ফেসবুকে কোনো কিছু প্রকাশ করা, যেমন: কোনো লেখা বা ছবি দেওয়া, অন্যের কোনো পোস্ট শেয়ার করার আগে ভেবে দেখুন আপনি সত্যিই সবার সামনে এটি জানাতে চাইছেন কি না। প্রকাশ করার সঙ্গে সঙ্গেই আপনার বন্ধুদের সবাই এটি দেখতে পাবেন এবং হয়তো তাঁরা এর পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত জানাবেন।
নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ
ফেসবুক, ই-মেইল, মোবাইল ফোন ও এসএমএসের মাধ্যমে কী কী নোটিফিকেশন পেতে চান, সেটি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে নোটিফিকেশন সেটিংসের পাতা (www.facebook.com/settings?tab=notifications) থেকে।

আহা প্রেম ভালবাসা

আহা প্রেম
কিছুই ভালো লাগছে না আজ রোহানের! অফিসে একগাদা কাজ! মাথাটা ঝিমঝিম করছে ভীষণ! এক কাপ কফি পেলে মন্দ হতো না! ডেস্ক ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে পিয়ন মতিনকে খোঁজে সে! সারা ফ্লোর ফাঁকা! সবাই লাঞ্চে! রোহান ছোট করে একটা নিশ্বাস ফেলে নিজের টেবিলে ফিরে আসে! ঠিক তখন অনেকটা হেলেদুলে অপলা এসে দাঁড়ায় রোহানের সামনে!
কী রোহান ভাই, কেমন আছেন?

অপলা দেখতে তুখোড়! মাস তিনেক হলো অ্যাকাউন্টস অফিসার হিসেবে জয়েন করেছে! রোহানের বেশ ভালো লাগে ওকে! কিন্তু খুচরো আলাপ জমেনি কাজের চাপে!
রোহান ভাই, কথা বলছেন না কেন?
অপলার চোখেমুখে আকুতি! রোহান খেয়াল করে! অপলা পরেছে আজ কালো টি-শার্ট! নীল জিনস! চুলটা পেছন দিকে পনিটেইল করে বাঁধা! অপূর্ব দৈহিক গড়নের সঙ্গে পোশাকটা অন্য রকম সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে! শরীর থেকে ম-ম করছে দামি পারফিউমের গন্ধ!
কী বলব?
চলেন ভাইয়া, লাঞ্চ করে আসি!
রোহান নরমভাবে বলে, না না, আজ না! আরেক দিন! অপলা আর দাঁড়ায় না! একটু অভিমানী ভঙ্গিতে সে চলে যায়!
রোহান কাজে মন দেয়! কিন্তু মনে মনে ঠিকই অনুতাপ হয় তার! লাঞ্চের বাটি নিয়ে পিয়ন মতিন সামনে এসে দাঁড়ায়! তার হাতে নীল একটা খাম! সে মিনমিন করে বলে, ‘স্যার, আপনার একটা চিঠি! জিপিও থেকে এসেছে!’ রোহান চিঠিটা দেখে বিস্মিত হয়! এই সময়ে তাকে নীল খামে চিঠি লেখার তো কেউ নেই! তবু ভীষণ কৌতূহলী হয়ে খামটা খোলে রোহান! কম্পিউটারে প্রিন্ট করা একটা চিঠি! ‘ভালোবাসা, আমাকে তোমার বুকের ধ্রুব ছন্দময়তায় বেঁধে রাখো,/ চিরদিন! ভালো থেকো—অ’
রোহান ‘অ’ দেখেই বুঝে যায় অপলা! ভেতরে ভেতরে তার কী রকম টেনশন হয়! কিছুটা উত্তেজনা! সে টিপটিপ করে উঠে আসে রুমের বাইরে! দূর থেকে অপলার ডেস্কটা খেয়াল করে! অপলাকে দেখা যায় না! না দেখা যাক! অসুবিধা নেই! কাল এসে জমিয়ে কথা বলা যাবে! অপলাকে একটা ইমেইল লেখে রোহান! ‘অপলা, সাহস নিয়ে চিঠি পাঠানোর জন্য অনেক কৃতজ্ঞতা! আমিও দিনের পর দিন সংসার নিয়ে ভীষণ বিরক্ত! চলো, কাল আমরা কোথাও বসব!’ মেইলটা পাঠিয়ে চিঠিটা বুকপকেটে রেখে অফিস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয় সে!
ঠিক তখন ওর স্ত্রী অজন্তা অফিসেএসে হাজির! তার মুখ হাসি হাসি! হাতে ফুলের গোছা! হাসতে হাসতে অজন্তা বলে, নিশ্চয়ই ভুলে গেছো কাল আমাদের ম্যারেজ ডে! চিঠি পেয়েছ? চমকে দিয়েছি না? রোহান ডেস্কে শীতল হয়ে বসে থাকে! মিনমিন করে বলে, ‘হ্যাঁ হ্যাঁ, ভীষণ চমকে গেছি! ভীষণ।’

লিখিত পরীক্ষার লড়াই ৩৫তম বিসিএস

৩৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ১ সেপ্টেম্বর থেকে। হাতে আছে মাত্র সপ্তাহ খানেক সময়। লিখিত পরীক্ষায় প্রতিযোগিতা করবেন ২০ হাজার ৩৯১ জন। ১ হাজার ৮০৩টি শূন্য পদের বিপরীতে পরীক্ষাটি কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, তা সহজেই বোঝা যায়। তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই, প্রয়োজন শুধু সঠিক পরিকল্পনার। পরীক্ষা নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তা করবেন না। এখন সময় আপনার পড়া বিষয়গুলোই ঝালিয়ে নেওয়ার। সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলোতে কম সময় ব্যয় করুন। প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা পড়ুন। অনেকে হয়তো চাকরি করেন, তাঁদের বলব, নিজের সুবিধামতো সময় বের করে নিন।
বিসিএসে তিনটি পরীক্ষার মধ্যে শুধু লিখিত পরীক্ষার সুনির্দিষ্ট সিলেবাস আছে। লিখিত পরীক্ষা গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, বাংলাদেশ বিষয়াবলি, বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে হয়। নতুন সিলেবাসে এবারই প্রথম পরীক্ষা। পরীক্ষার সময়ও বেড়েছে বেশ কয়েকটি বিষয়ের। সুতরাং প্রস্তুতির শুরুতেই সেটি মাথায় রাখতে হবে। সিলেবাসের কোন বিষয়ে আপনার দুর্বলতা আছে, তা শনাক্ত করে দ্রুত উত্তরণের উপায় খুঁজতে হবে। কোনো ক্ষেত্রে ধারণা কম থাকলে তাতে জোর দিতে হবে আজই। কারণ, কোনো বিষয় একেবারেই না পড়ে গেলে পরীক্ষায় নিজের মতো করে লেখাটাও সহজ হবে না।

ইংরেজি পরীক্ষায় কম্প্রিহেনসনের মূল বিষয়টি ভালোভাবে বোঝাটা খুব জরুরি। সারমর্মে প্যাসেজের কোনো লাইন সরাসরি কপি করবেন না। একই শব্দ পুনরাবৃত্তি না করে সমার্থক শব্দ ব্যবহারের চেষ্টা করবেন। এই ক্ষেত্রে ভোকাবুলারি ভালো হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাদ, উদ্ধৃতি, তথ্য-উপাত্তের প্রয়োগ আপনার ইংরেজি রচনাকে সমৃদ্ধ করবে। অনুবাদের জন্য বিগত সালের পরীক্ষায় আসা অনুবাদগুলো চর্চা করুন। ক্ষেত্রবিশেষে ভাবানুবাদ আক্ষরিক অনুবাদের চেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য। বানান ও গ্রামারের ব্যাপারে বিশেষভাবে সচেতন থাকবেন।

বাংলা বিষয়ে একটু গুরুত্ব দিয়ে বলতে চাই, অন্য বিষয় থেকে এই সিলেবাস অধিকতর বড়। বাংলায় আপনি যদি অন্তত বিভিন্ন দরখাস্ত, মানপত্র বা চিঠি ইত্যাদি লেখার নিয়ম আয়ত্ত করতে পারেন, তাহলে যেকোনো ধরনের পত্র পরীক্ষায় আসুক না কেন, আপনি তার উত্তর লিখতে পারবেন। বিভিন্ন সাহিত্যিক ও তাঁদের সাহিত্য সম্পর্কে ধারণা রাখাটা জরুরি। গ্রন্থ-সমালোচনার ক্ষেত্রে বলতে চাই, আপনার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিটিই লিখুন।
বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির জন্য বই ও পত্রপত্রিকার পাশাপাশি নির্ভর করতে পারেন অন্তর্জালের ওপর। কোনো বিষয় মাথায় এলেই গুগলে সার্চ করে জেনে নিন। পরীক্ষায় সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে যিনি যত সুস্পষ্ট উত্তর লিখতে পারবেন, তিনি তত বেশি নম্বর পাবেন। তথ্যসূত্র হিসেবে বিভিন্ন লেখকের রচনা, পত্রিকার কলাম ও সম্পাদকীয়, বিভিন্ন সংস্থার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট, সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারা ও ব্যাখ্যা, উইকিপিডিয়া, ন্যাশনাল ওয়েব পোর্টাল ও আন্তর্জাতিক পত্রিকাগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে।
গাণিতিক যুক্তি বিষয়ে যেহেতু পূর্ণ নম্বর পাওয়া সম্ভব, সেহেতু অনুশীলনের ওপর জোর দিন। মানসিক দক্ষতা পরীক্ষায় ভুল উত্তরে নম্বর কাটা যাবে, তাই উত্তর দেওয়ার আগে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে নিন। সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট বইগুলোর সঙ্গে আগের বছরের প্রশ্নগুলোতে চোখ বুলিয়ে নিন।
লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্নের গুরুত্ব ও নম্বরের ভিত্তিতে সময় বণ্টন লেখা শুরু করার আগেই ঠিক করে নিন। প্রশ্নের উত্তর বড় হতেই হবে, এমন কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। সময় বেঁধে পরীক্ষা দেওয়ার অনুশীলন আপনার ভয় ও জড়তা কাটাতে সাহায্য করবে।
সামনে আর মাত্র দুটি ধাপ। মনোবল ধরে রেখে পড়াশোনা করুন নিয়মিত। আর অবসরে ভালো লাগার বিষয় নিয়ে মগ্ন থাকুন। আত্মবিশ্বাস, একাগ্রতা আর অনুশীলনের সঠিক মিশেলই হতে পারে আপনার সাফল্যের সহায়।

শুভ-মাহির ‘ঢাকা অ্যাটাক’

‘ঢাকা অ্যাটাক’ নামে নতুন একটি ছবিতে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন আরিফিন শুভ ও মাহিয়া মাহি। ঢাকাই চলচ্চিত্রের এ সময়ের জনপ্রিয় দুই অভিনয়শিল্পীকে নিয়ে ছবিটি বানাবেন দিপংকর সেনগুপ্ত দীপন। দীপন দীর্ঘদিন ধরে টিভি নাটক নির্মাণের সঙ্গে জড়িত। 

শুভ-মাহির ‘ঢাকা অ্যাটাক’

আরিফিন শুভ ও মাহিয়া মাহিগতকাল বুধবার ছবিটিতে অভিনয়ের ব্যাপারে শুভ ও মাহির সঙ্গে কথাবার্তা চূড়ান্ত করেছেন পরিচালক ও প্রযোজক। সবিকছু ঠিক থাকলে নভেম্বরে ঢাকা অ্যাটাক ছবির শুটিং শুরু হবে বলে জানালেন নির্মাতা দিপংকর সেনগুপ্ত দীপন। তবে ছবির শুটিংয়ে শুভ অংশ নেবেন জানুয়ারিতে।  
শুভ-মাহির ‘ঢাকা অ্যাটাক’
আরিফিন শুভ ও মাহি জুটি হয়ে এর আগে ‘অগ্নি’ ও ‘ওয়ার্নিং’ ছবিতে অভিনয় করেন। এরপর তাঁদের আর একসঙ্গে দেখা যায়নি। সে হিসেবে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ হতে যাচ্ছে শুভ ও মাহির তিন নম্বর চলচ্চিত্র। 
এ প্রসঙ্গে শুভ বলেন, ‘ছবির গল্পটা নিঃসন্দেহে অসাধারণ। আমরা সাধারণত পুলিশ প্রশাসনকে যেভাবে দেখি, সে হিসেবে “ঢাকা অ্যাটাক” ছবিতে ভিন্ন এক পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে পরিচিত হব। পুলিশ প্রশাসনে কর্মরত মানুষদের জীবনযাত্রার নানা দিক, প্রেম-ভালোবাসা, সংকট-সম্ভাবনা এবং মন্দের দমনের ব্যাপারগুলো সুন্দরভাবে তুলে ধরা হবে।’
আরেফিন শুভ আজ বৃহস্পতিবার রাতের ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ছেন। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস ও শিকাগোতে “ছুঁয়ে দিল মন” ছবির দুটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তিনি দর্শকদের সঙ্গে বসে ছবিটি দেখবেন আর ছবি নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করবেন। এ ছাড়া, ৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে একটি শো’তে গানের সঙ্গে পারফর্ম করার কথাও রয়েছে তাঁর। যুক্তরাষ্ট্রে কাজ শেষে এরপর সোজা চলেন যাবেন অস্ট্রেলিয়া। সেখানে ‘মৃত্যুপুরী’ ছবির শুটিংয়ে নেবেন বলেও জানান শুভ।

জনতার নায়ক সৌম্য


জাতীয় দলে আবির্ভাব হয়েছে এখনো এক বছর হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছেন সৌম্য সরকার। ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে সবার মন কেড়েছেন। চার-ছক্কা হাঁকিয়ে গ্যালারি মাতাচ্ছেন নিয়মিত। ক্রিকেট দলের এই তারকার ভক্ত সংখ্যাও তাই বেড়েই চলেছে দিনদিন। নিজের প্রিয় তারকার সঙ্গ কামনা করেন সব ভক্তই। কিন্তু সাধারণ মানুষের তো সব সময় সাধ্য হয় না তারকাদের সঙ্গ পাওয়া। গতকাল সৌম্যকে একেবারে হাতের কাছে পেয়ে গেলেন এঁরা।

মাত্র অনুশীলন শেষ করে বের হলেন সৌম্য। এত বড় তারকাকে হাতের কাছে পেয়ে দেরি করলেন না শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা কর্মীরা।
নিজের সঙ্গীকে সৌম্যের সঙ্গে ছবি তুলতে দেখে অপর নিরাপত্তা কর্মীও চলে এলেন ছবি তুলতে। 


অনেক তো ছবি তোলা হলো, এবার বাড়ি ফেরার পালা। রিকশা ডেকে আনতেই রিকশাচালক স্বপনেরও আবদার মেটাতে হলো। তুলবেনই যখন, স্বপন তুললেন সেলফি।


কেবল একবার তুললেই তো আর স্বাদ মেটে না। তাই নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি সেলফি তুলে নিলেন স্বপন।

রুপির বিপরীতে টাকা আরও শক্তিশালী

রুপির বিপরীতে টাকা আরও শক্তিশালী

ডলারের বিপরীতে দীর্ঘদিন ধরেই টাকা শক্তিশালী। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ভারতীয় রুপির বিপরীতেও বাংলাদেশি মুদ্রা কিছুটা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। ফলে ভ্রমণ কিংবা চিকিৎসার জন্য যাঁরা ভারতে যাবেন তাঁরা আগের চেয়ে লাভবান হবেন। কারণ রুপি কিনতে এখন টাকা কম লাগবে।

অবশ্য টাকা শক্তিশালী হওয়ায় পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে খুব বড় প্রভাব পড়বে কি না সেটি নিয়ে কিছুটা দ্বিমত আছে। বিবিসি বাংলা গত বুধবার এমনই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, এই প্রবণতা বজায় থাকলে বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানি বাড়বে। গত সোমবার একটা পর্যায়ে ১০০ রুপির দাম হয়েছিল ১১৫ টাকার সামান্য বেশি। সারা বিশ্বে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে যে উথালপাতাল চলছে তাতে টাকা ডলারের বিপরীতে দৃঢ়তা দেখাতে পেরেছে। তাই রুপির তুলনায় তার দর বেড়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গতকাল বৃহস্পতিবার ১০০ রুপি বিক্রয় করে ১১৮ টাকায়। চলতি মাসের শুরুর দিকে ছিল ১২২ টাকা। দুই বছর আগে ২০১৩ সালের ১১ আগস্ট ছিল ১২৮ টাকা। অবশ্য মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে সেটি কিছুটা বেড়ে যায়। গতকাল বেনাপোল-পেট্রাপোলে ১০০ টাকায় পাওয়া যায় ৮২ দশমিক ৫০ রুপি। তার মানে ১০০ রুপি কিনতে লাগছে ১২১ টাকা।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমবায় সমিতি সহসভাপতি আমিনুল হক প্রথম আলো বলেন, ‘ভারত থেকে আমরা কেনাকাটা করি ডলারে। ফলে রুপির ওঠানামার কারণে খুব একটা প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না। তবে যাঁরা বেড়াতে যান, কাঁচা টাকা ভাঙান তাঁরা লাভবান হবেন।’
জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রথম আলোকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা ও সরবরাহ ওঠানামার কারণেই মূলত রুপি ও টাকার মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। তাই দুই দেশের মধ্যকার আমদানি-রপ্তানি ডলারে হলেও রুপির দরপতন যদি অব্যাহত থাকে ও দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে দুই ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সিপিডির এই গবেষক বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে রুপির দরপতন থাকলে বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানিতে ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন না। তবে আমদানিকারকেরা এ অবস্থায় সুবিধা পাবেন। কারণ আগের চেয়ে কম অর্থ দিতে হবে। অন্যদিকে ভারত থেকে যাঁরা চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সেবা আমদানি করবেন তাঁরা সুবিধা পাবেন।
আন্তর্জাতিক আর্থিক সম্পর্ক নিয়ে কাজ করা দিল্লিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকরিয়েরের গবেষক অর্পিতা মুখার্জি বিবিসিকে বলেছেন, ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্যটা ডলারে হয় বলেই রুপির পতনের প্রভাবটা সীমিত হবে। তবে রুপির দাম কমায় রপ্তানিকারক হিসেবে ভারতের ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে। কিন্তু চট করে সেটার সুফল বোঝা যাবে না। কারণ এই ধরনের আমদানি-রপ্তানির পরিকল্পনাটা হয় অনেক আগে থেকেই। পণ্য ডেলিভারির ছয় মাস আগেই হয়তো দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি হয়ে যায়।
অবশ্য শুধু রুপির দরপতনে খুব একটা সুফল নাও পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করেন পেট্রাপোল স্থলবন্দরের কাস্টমস এজেন্ট পঙ্কজ রায়। তিনি বলেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সাময়িক লাভ হতে পারে। তবে আসল সমস্যা অন্য জায়গায়। পঙ্কজ রায় বলেন, পেট্রাপোল-বেনাপোল স্থলবন্দরে একটি মালবাহী ট্রাক যখন পণ্য খালাস করতে না পেরে দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তখন প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার টাকা গচ্চা যায়।

পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্রের মজুতে তৃতীয় হচ্ছে পাকিস্তান! ( Pakistan's nuclear weapons third place !)

 যুদ্ধাস্ত্রের মজুতে তৃতীয় হচ্ছে পাকিস্তান!

পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্রের মজুতে তৃতীয় হচ্ছে পাকিস্তান!

মাত্র পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যেই পরমাণু অস্ত্র মজুতের দিক থেকে বিশ্বের তৃতীয় অবস্থানে চলে যেতে পারে পাকিস্তান। দেশটি যেভাবে দ্রুত পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র (ওয়ারহেড) মজুত করছে, এতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে পেছনে ফেলা সময়ের ব্যাপার মাত্র। অর্থাৎ, পারমাণবিক অস্ত্রের মজুতে আগামী এক দশকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পরই হতে পারে পাকিস্তানের স্থান। যুক্তরাষ্ট্রের দুটি চিন্তন গোষ্ঠীর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পারমাণবিক শক্তির অধিকারী ভারতের ভয়ে পারমাণবিক অস্ত্রাগারে প্রতিবছর ২০টি করে যুদ্ধাস্ত্র যুক্ত করছে পাকিস্তান।
আন্তর্জাতিক শান্তি বিষয়ক কার্নেগি এনডাওমেন্ট ও স্টিমসন সেন্টারের প্রতিবেদনের সূত্রে ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, আগুয়ান বছরগুলোতে পাকিস্তানের কাছে অতি-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় ধরনের মজুত থাকায় দেশটির পক্ষে দ্রুত স্বল্পমাত্রার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে এগিয়ে থাকা সম্ভব। অন্যদিকে ভারতের কাছে রয়েছে সমৃদ্ধ প্লুটোনিয়ামের বিশাল মজুত, যা উচ্চ ক্ষমতার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে কাজে লাগানো সম্ভব। কিন্তু দেশটি এসব প্লুটোনিয়ামের বেশির ভাগই অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহার করছে বলে ধারণা করা হয়।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ভারতের ১০০টি পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্রের বিপরীতে পাকিস্তানের রয়েছে ১২০টি। আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে পাকিস্তানের এই যুদ্ধাস্ত্র অন্তত ৩৫০টিতে পৌঁছাতে পারে। এতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে পেছনে ফেলে পারমাণবিক অস্ত্রের মজুতে পাকিস্তান তৃতীয় অবস্থানে চলে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যে প্রতি ৬৫ জনে একজন লাখপতি

প্রতি ৬৫ জনে একজন লাখপতি




যুক্তরাজ্যে গত পাঁচ বছরে লাখপতির (মিলিয়নিয়ার) সংখ্যা ৪১ শতাংশ বেড়েছে। এখন দেশটির প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে প্রতি ৬৫ জনে একজন লাখপতি। খবর গার্ডিয়ানের।
বাড়ি ও শেয়ারবাজারে দরবৃদ্ধির ফলে গত পাঁচ বছরে যুক্তরাজ্যে নতুন করে দুই লাখের বেশি মানুষের সম্পদ ১০ লাখ পাউন্ড ছাড়িয়ে গেছে। ২০১০ সালে মিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ছিল পাঁচ লাখ আট হাজার। এখন সেটা ৭ লাখ ১৫ হাজার।
নতুন করে যারা মিলিয়নিয়ার হয়েছে, তাদের প্রায় অর্ধেকের (৪৮ শতাংশ) বসবাস লন্ডনের বাইরে এবং দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে। লন্ডনের বাইরে সম্পদশালীদের বসবাস বেশি কেমব্রিজ ও বার্মিংহামে। এরপর তৃতীয় সম্পদশালী এলাকা ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চল।
বাড়ি ও শেয়ারবাজারে দরবৃদ্ধির পাশাপাশি বেতন-ভাতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি যুক্তরাজ্যে সম্পদশালীর সংখ্যা বাড়ার পেছনে বড় অবদান রেখেছে।

বেতফল ( Betaphala)

বুনোফল বেতফল


আমাকে সে নিয়েছিল ডেকে;
বলেছিল: এ নদীর জল
তোমার চোখের মতো ম্লান বেতফল’
—জীবনানন্দ দাশ
বাংলার মাটির গুণে এখানে হাজারো তরুলতার সমাহার। নদীবাহিত পলি, বৃষ্টিপাত আমাদের দেশকে দিয়েছে এক উর্বর ভূমি। দেশে রয়েছে পাঁচ হাজারের বেশি প্রজাতির বন্য গাছপালা। কিন্তু দুঃখের বিষয় অনেক বন্য গাছগাছড়াই এখন বিলুপ্তির পথে।

বেতফল


আবার ভিনদেশি গাছের আগ্রাসনেও হারিয়ে যেতে বসেছে বুনো প্রজাতি। আমাদের নিজস্ব গাছপালা নিয়ে তেমন গবেষণা হচ্ছে না। বরং ভিনদেশের ফলের গাছ, কাঠের গাছ ও ফুলের গাছ রোপণ এবং চাষের জন্য শহর, গ্রামের মেঠোপথ ও প্রাকৃতিক বন ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক মহল ও ব্যক্তি বিদেশি ফল-সবজির চাষাবাদে মানুষকে অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন। এতে দেশীয় গাছপালার ওপর মানুষ আগ্রহ হারাচ্ছে।
অথচ আমাদের কবিরাজ, আদিবাসী, গ্রামীণ লোকজন এখনো নানা ওষুধ ও ফলের জন্য দেশীয় গাছপালার ওপরই নির্ভরশীল। আমাদের সব কবিই আমাদের দেশের প্রকৃতি ও গাছপালার জয়গান করেছেন।
বেতফল আমাদের ছোটবেলার এক অতি কাঙ্ক্ষিত ফল। আমরা সহজেই যাকে পেতাম না। আমরা ছেলেবেলায় একে বলতাম বেতুইন ফল। ফল পরিপক্ব হলেই বেতঝাড়ে হানা দিতাম সাবধানে। তারপরও পায়ে, জামা-কাপড়ে বেতের কাঁটা যেত বিঁধে। ফলের বাইরের খোলস ফেলে যখন রসাল অংশটা হাতে আসত, তখন সে আনন্দ গ্রামের কিশোর-কিশোরীরা সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করত। গ্রামে বেতের ঝাড় খুবই কম দেখা যেত।
বেত কাঁটাময়, চিরসবুজ, অরোহী পাম। কাণ্ড লম্বা, কাঁটাযুক্ত ও শাখাহীন। সরু ও নলাকার কাণ্ড প্রস্থে সাধারণত ৫-১৫ মিলিমিটার। প্রতিটি কাণ্ডের আগা থেকে নতুন পাতা বের হয় ও বেড়ে ওঠে। কাণ্ড বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর নিচের অংশ পোক্ত হতে থাকে। কোনো ধারককে ধরে রাখার জন্য কাঁটাযুক্ত ধারক লতা বের হয়। বেতে ফুল ধরার আগে গাছ থেকে একধরনের মিষ্টি ঘ্রাণ আসে। তখন মৌমাছি, পিঁপড়া, মাছি আসে সেই রস খেয়ে মাতাল হওয়ার জন্য।
সাধারণত গ্রামের রাস্তার পাশে, বসতবাড়ির পেছনে, পতিত জমিতে ও বনে কিছুটা আর্দ্র জায়গায় বেতগাছ জন্মে। কিছুদিনের মধ্যেই বেত ঘন হয়ে ঝাড়েও পরিণত হয়। এ প্রজাতি বাংলাদেশের সর্বত্র জন্মে। Arecaceae পরিবারের এ প্রজাতির বেতের বৈজ্ঞানিক নাম calamus tenuis। বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ছাড়াও হাওরের কান্দাতে বেতগাছ জন্মে। সারী নদীর তীরের শালুটিগড় হাওর, সুরমা নদীর তীরের জিলকার হাওর ও পাথরচাউলি হাওরের কান্দায় এ বেতের ঝোপ দেখেছি। এটির আদি আবাস হিমালয়ের উষ্ণ এলাকা, বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার।
বেত অতি মূল্যবান ও অর্থকরী উদ্ভিদ। উন্নতমানের হ্যান্ডিক্রাফট, গৃহের আসবাবপত্র তৈরির জন্য বেতের ব্যবহার বেশি। কস স্বাদযুক্ত ফল গ্রামীণ শিশুদের অতি প্রিয়। এ ফল বাজারে বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেতের কচি কাণ্ড তরকারি হিসেবেও খাওয়া হয়।

( China is creating a new generation of supercomputers) নতুন প্রজন্মের সুপারকম্পিউটার তৈরি করছে চীন

সুপারকম্পিউটার তৈরি করছে চীন


প্রতি সেকেন্ড শত হাজার ট্রিলিয়নের বেশি হিসাব করতে সক্ষম এমন নতুন প্রজন্মের সুপারকম্পিউটার তৈরি করছে চীন। এই সুপারকম্পিউটারের নাম ‘ডাউনিং ৭০০০’।
চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডাউনিং ইনফরমেশন ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট লি জুন বলেন, ডাউনিং ৭০০০ তৈরি করা হচ্ছে মূলত বাজারের চাহিদার কথা মাথায় রেখে। দ্রুতগতির যোগাযোগ নেটওয়ার্ক, বড় আকারে তথ্য সংরক্ষণ ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের জন্য এটি তৈরি করা হচ্ছে। চীনের বিজ্ঞান অ্যাকাডেমি এতে সহযোগিতা করছে। ডাউনিং এর আগে নেবুলা বা ডাউনিং ৬০০০ নামে সুপারকম্পিউটার তৈরি করেছিল। ২০১০ সালে করা বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ টি সুপারকম্পিউটারের তালিকায় নেবুলা দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। এটি সেকেন্ডে এক দশমিক ২৭১ পেটাফ্লপ গতিতে হিসাব করতে সক্ষম।
Super computer

কম্পিউটারের গতি নির্ধারক লিনপ্যাক বেঞ্চমার্কের সাহায্যে প্রতিবছর দুবার বিশ্বের সেরা ৫০০টি সুপার কম্পিউটারের তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেকেন্ডে এক হাজার ট্রিলিয়ন গাণিতিক হিসাব করার ক্ষমতাসম্পন্ন পেটাফ্লপ গতির সুপার কম্পিউটারগুলোর একটি তালিকা করেন টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জ্যাক ডংগারা। মেট্রিক পদ্ধতিতে শত কোটিকে বলা হয় এক বিলিয়ন। এক হাজার বিলিয়নকে বলা হয় এক ট্রিলিয়ন এবং এক হাজার ট্রিলিয়নকে বলা হয় এক পেটা।
লি জুন বলেন, ডাউনিংয়ের নতুন সুপারকম্পিউটার হবে সব ধরনের কাজের উপযোগী যন্ত্র। এটি নির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশনের জন্য মেইনফ্রেম কম্পিউটার হবে। তাই এর নির্মাণচক্র দীর্ঘায়িত হতে পারে।

বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলক ও অ্যাসেম্বল দশায় পৌঁছেছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এর দেখা মিলতে পারে। (পিটিআই)

Laptop like smartphone ! (স্মার্টফোনের মতো ল্যাপটপ! আসছে বাজারে )

স্মার্টফোনের মতো ল্যাপটপ! আসছে বাজারে


ভবিষ্যতের ল্যাপটপ আর প্রচলিত ল্যাপটপের মতো থাকবে না। ল্যাপটপে থাকবে স্মার্টফোনের নানা সুবিধা। ইনটেল, হিউলেট-প্যাকার্ড (এইচপি) ও অ্যাপল স্মার্টফোনের সুবিধাযুক্ত ল্যাপটপ বাজারে আনতে কাজ করছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলনে মার্কিন চিপ জায়ান্ট ইনটেল একটি বিশেষ প্রযুক্তি সম্পর্কে জানিয়েছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারে ল্যাপটপের নকশায় আরও পরিবর্তন আনা সম্ভব হতে পারে বলেই দাবি করেছে ইনটেল কর্তৃপক্ষ। এর ফলে অ্যাপলের অত্যন্ত হালকা-পাতলা ১২ ইঞ্চি মাপের ম্যাকবুক এমনকি এইচপির এলিটবুক ফোলিও ১০২০ মতো ল্যাপটপ অনায়াসে তৈরি করা সম্ভব হবে।
Laptop like smartphone 
প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা বলছেন, স্কাইলেক নামে ইনটেল নতুন যে চিপ এনেছে তাতে কোয়ালকম কিংবা অ্যাপলের তৈরি স্মার্টফোন প্রসেসরের ফিচারের সঙ্গে যথেষ্ট মিল রয়েছে। স্কাইলেক হচ্ছে ইনটেলের ষষ্ঠ প্রজন্মের কোর প্রসেসর।
প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট আরস টেকনিকা নতুন এই চিপটি বিশ্লেষণ করেও স্মার্টফোনের চিপের সঙ্গে সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছে। ইনটেলের লক্ষ্য হচ্ছে ল্যাপটপের জন্য এমন প্রসেসর তৈরি করা যাতে অধিক শক্তি সাশ্রয় করা যায় এবং পারফরম্যান্স বেশি পাওয়া যায়। অ্যাপলের আইফোনে ব্যবহৃত প্রসেসরেও এ ধরনের ফিচার রয়েছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাজারে ১৫ ইঞ্চি মাপের ডিসপ্লে ও ইনটেলের দ্রুতগতির প্রসেসরযুক্ত ল্যাপটপ থাকলেও বাজারের কিছু অংশ বড় মাপের স্মার্টফোন ও প্রচলিত পিসির হাইব্রিডগুলোর দিকে ঝুঁকছে। এ বছরের শুরুতে ১২ ইঞ্চি মাপের রেটিনা ম্যাকবুক এনে এ ক্ষেত্রে অ্যাপল কিছুটা এগিয়েও গেছে। মাত্র দুই পাউন্ড ওজন এটির। এটি আসল আইপ্যাডের চেয়ে সামান্য ভারী।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা বলছেন, ম্যাকবুকের নকশায় পরিবর্তন এসেছে ইনটেলের কারণে। ইনটেলের কোর এম সিরিজের ‘ফ্যানবিহীন’ প্রসেসর যখন স্কাইলেক চিপ আর্কিটেকচারের ওপর বসবে তখন এটি আরও উন্নত হবে। ভবিষ্যতে অ্যাপলের ম্যাকবুকগুলো হবে আরও ব্যাটারি সাশ্রয়ী ও উন্নত গ্রাফিকস ক্ষমতা সম্পন্ন। অ্যাপলের মতো এইচপির হালকা-পাতলা ল্যাপটপের সক্ষমতাও বাড়াবে ইনটেলের স্কাইলেক প্রযুক্তি।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এইচপি আর অ্যাপল তাদের ভবিষ্যতে ল্যাপটপগুলোকে শুধু আর ল্যাপটপের সক্ষমতায় আটকে রাখবে না। ইনটেলের দ্রুতগতির স্মার্টফোনের ফিচার সমৃদ্ধ চিপ বসিয়ে ল্যাপটপকেও স্মার্টফোন ভাবতে শেখাবে। ল্যাপটপ ব্যবহারকারীদের স্মার্টফোনের এই অভিজ্ঞতা দিতে কাজ করবে স্কাইলেক। (ফক্সনিউজ অনলাইন)

কৃষ্ণগহ্বর থেকে বেরোনোর পথ! আবিষ্কার

কৃষ্ণগহ্বর থেকে বেরোনোর পথ!


ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বরে যা একবার পড়ে তা চিরতরে হারিয়ে যায়। বিজ্ঞানীরাও এমনটাই মনে করেন। এই ব্ল্যাকহোল থেকে বের হওয়ার আর কোনো পথই থাকে না। তবে সম্প্রতি বিখ্যাত তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং শুনিয়েছেন ভিন্ন কথা। সুইডেনের স্টকহোমে কেটিএইচ রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে বক্তৃতা দিতে গিয়ে নতুন একটি তত্ত্ব শুনিয়েছেন তিনি। হকিং বলেন, ‘কৃষ্ণগহ্বরকে আমরা যে অনন্তকালের কারাগার বলে জেনে এসেছি আসলে এটা তা নয়। কৃষ্ণগহ্বরে কোনো কিছু পড়ে গেলে তা চিরতরে হারিয়ে যায় না।’



গবেষকেরা বলছেন, ব্ল্যাকহোল হচ্ছে মহাকাশের এমন বিশাল একটি অঞ্চল যেখানকার মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এতটাই প্রবল যে সেখান থেকে কোনো কিছুই বের হতে পারে না। কৃষ্ণগহ্বর থেকে এমনকি আলোও বের হতে পারে না।
তবে হকিং বলছেন, ‘আপনার যদি মনে হয় কৃষ্ণগহ্বরে পড়ে গেছেন, তবুও আশা ছাড়বেন না। এখান থেকে বের হওয়ারও পথ রয়েছে।’স্টিফেন হকিং
হকিং মনে করেন, ব্ল্যাকহোলে যে তথ্য চিরতরে হারিয়ে গেছে বলে মনে করা হয়ে আসছে তারও জীবন আছে। আসলে এ তথ্য কৃষ্ণগহ্বরে পুরোপুরি হারায় না। কৃষ্ণগহ্বরের সীমানা বা ঘটনা দিগন্তে তা সংরক্ষিত থাকে।
কোয়ান্টাম মেকানিকসের সূত্র অনুযায়ী, এ তথ্য যেকোনো সময় যেকোনো উপায়ে সেখান থেকে বের হয়ে আসতে পারে।
প্রসঙ্গত, গত বছর হকিং অবশ্য কৃষ্ণগহ্বরের কোনো অস্তিত্ব নেই এ তত্ত্ব দিয়েছিলেন।
হকিং বলেন, আমার এই বক্তৃতার সারমর্ম হচ্ছে— কৃষ্ণগহ্বর আসলে কালো নয়। এক সময় কৃষ্ণগহ্বরকে যে অনন্ত কারাগার মনে করা হতো এটা তাও নয়। কৃষ্ণগহ্বর থেকেও বস্তুর বের হওয়ার পথ রয়েছে এবং কৃষ্ণগহ্বর থেকে বের হয়ে বস্তু সম্ভবত আরেক বিশ্বে চলে যেতে পারে।

(ফেসবুকে) প্রতিদিন ১০০ কোটি মানুষ!

বিশ্বে প্রতিদিন প্রতি সাতজনে একজন ফেসবুক



বিশ্বে প্রতিদিন প্রতি সাতজনে একজন ফেসবুক ব্যবহার করছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন। 

জাকারবার্গ বলেন, ‘প্রথমবারের মতো একদিনে ১০০ কোটি সক্রিয় ব্যবহারকারীর মাইলফলক ছুঁয়েছে ফেসবুক। গত মঙ্গলবার দিন ফেসবুকে ১০০ কোটি ব্যবহারকারীর এই রেকর্ড হয়।’ 

জাকারবার্গ বলেন, এটা কেবল পুরো বিশ্বকে সংযোগ সুবিধার আওতায় আনার শুরু। 
যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি দপ্তরের (ইউএস সেনসাস ব্যুরো) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান বিশ্বের জনসংখ্যা ৭২৬ কোটি। 
গত জুলাই মাসে প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদন দেওয়ার সময় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, প্রতিদিন ৯৬ কোটি ৮০ লাখ ব্যবহারকারী ফেসবুক ব্যবহার করছেন। প্রতি মাসে একবার ফেসবুকে ঢোকেন এমন ব্যবহারকারী সংখ্যা ১৫০ কোটি। 
প্রতিমাসে একবার মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩১ কোটি ৬০ লাখ। 
ফেসবুকের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ ফেসবুক ব্যবহারকারী যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাইরের বাসিন্দা। ১৩৫ কোটি জনসংখ্যার দেশ চীনও এই হিসাবের বাইরে। চীনে সামাজিক যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ ভারতেও ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা খুব বেশি নয়। ১২৫ কোটি জনসংখ্যার দেশে বর্তমানে ফেসবুক ব্যবহারকারী মাত্র সাড়ে ১২ কোটি। বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা এক কোটি ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে। সূত্র: ইউএসএ টুডে